বিদ্রোহীদের সতর্ক বার্তা বিএনপির, না মানলে বহিষ্কার
- প্রকাশকাল ০১:১১:১৫ এএম, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ১০ পাঠক
নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির শতাধিক নেতা বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপি ঘোষিত দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের বিপরীতে নির্বাচনে নামায় এসব নেতাকে ঘিরে দলটির ভেতরে অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এসব প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করাতে বোঝানো হচ্ছে। এতে কাজ না হলে কঠোর হবে দল। সতর্ক বার্তা না মানলে দল থেকে বহিষ্কার হবেন বিদ্রাহী প্রাথীরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিদ্রোহী হিসেবে দেখছে বিএনপি:
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বোঝাতে অঞ্চলভিত্তিক জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সরাসরি কথা বলছেন; আগামী নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সম্ভাব্য পরিণতি সাংগঠনিক চিন্তা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগের পর ইতিমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছেন।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে দলের এমন মনোভাবের কথা জানা গেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
চাপ নয় কৌশলে জোর বিএনপির:
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিপর্যায়ের আলোচনা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বা কাঠামোর ভেতরে হচ্ছে। কারও ওপর চাপ নয়, বরং দলীয় ঐক্য ও নির্বাচনী কৌশলের কথা তুলে ধরে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক আলোচনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে শেষ পর্যায়ে তারেক রহমানও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।
সতর্ক বার্তা না মানলে বহিষ্কার:
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিষয়টি দল গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান নজরুল ইসলাম খান । তিনি জানান, বিএনপির মতো বড় দলে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীর কোনো ঘাটতি নেই। ফলে অনেকেই মনে করতে পারেন, তারা মনোনয়ন পেলে আরো ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। সে কারণেই কেউ কেউ আলাদা উদ্যোগ নিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা এখনো শেষ হয়নি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি দলের আহ্বান রয়েছে তারা যেন দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অধিকাংশই সেই আহ্বানে সাড়া দেবেন। ইতোমধ্যে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের ইচ্ছা দলকে জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দল বাধ্য হবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকে জানান‘প্রতিনিয়ত তাদের বোঝানো হচ্ছে। এরপরও না বুঝলে তাদের বিরুদ্ধে তো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতেই হবে। এ ছাড়া আর উপায় কী।’
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন, তাদের সাধুবাদ জানানো হবে। তবে সময়সীমা পার হলে অবাধ্য বা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সমঝোতা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন:
নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে ১৬টি আসনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। এ সিদ্ধান্তে শরিক দলগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে স্বস্তি তৈরি হলেও নির্বাচনী মাঠে বাস্তবতা এখনো ভিন্ন। বিএনপি যেসব আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না মিত্র দলের প্রার্থীরা; বরং অনেক এলাকায় বিএনপির স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয়তায় জোট প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে মিত্র দলের নেতারা সরাসরি বিএনপির চেয়ারম্যান ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির হস্তক্ষেপ চাইছেন। তাদের দাবি, তৃণমূলে কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হলে উচ্চপর্যায়ে থেকে প্রকাশ্য নির্দেশনা দেওয়া জরুরি।






















