কঠোর অবস্থানে সেনাবাহিনী, গা ঢাকা দিচ্ছে অপরাধীরা
- প্রকাশকাল ১১:৫১:৫৪ এএম, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪ পাঠক
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী। জেলার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিক অভিযান ও টহল জোরদার করায় সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অপরাধীরা গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জেলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একাধিক সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, মাদকদ্রব্য জব্দ এবং চিহ্নিত অপরাধী ও সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে যৌথবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে।
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, খানপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, আদমজীনগর, ফতুল্লা, বন্দরের মদনপুর, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল অপরাধ দমন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা প্রকাশ্যে তৎপর থাকলেও ধারাবাহিক টহল ও অভিযানের ফলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
সম্প্রতি ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আড়াইহাজার থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ৯ জানুয়ারি মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে উপজেলা ছাত্রদল নেতার পৈতৃক বাড়ি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে শহরের জিমখানা বস্তি ও লেকপাড় এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশি অস্ত্র, ছুরি, চাপাতি, লাঠি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলেই মাদক সেবনের দায়ে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অন্যদিকে, গত বছরের ৩০ জুন ফতুল্লার কুতুবাইল এলাকায় আবির ফ্যাশন লিমিটেড গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শ্রমিক অসন্তোষ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়।
শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা রোধেও সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিল্পঘন ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়ায় নির্বাচনী সময়ে কোনো সুযোগ না দিতে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্যভিত্তিক যৌথ অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানে ছিনতাই, মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমে আসায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী সময় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
পাশাপাশি অপরাধীদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।




















