ঢাকা ০৯:৫২ এএম, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিজিবি সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সোনালী নারায়ণগঞ্জ ডটকম-
  • প্রকাশকাল ০৫:৪৭:৩৬ পিএম, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৭ পাঠক
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিজিবি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিজিবির বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। কোনো বিজিবি সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না বরং রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। বিজিবি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়। এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহিদ, বিজিবির দুই বীরশ্রেষ্ঠ ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী অকুতোভয় সদস্য এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত শহিদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিজিবির ঐতিহ্যবাহী এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আজকের পুরুষ ও নারী নবীন সৈনিকদের কুচকাওয়াজ আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ বিগত ৪৪ বছর যাবৎ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্তৃক নিয়োগকৃত রিক্রুটদেরকে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। স্বাধীনোত্তর এ যাবৎ এই প্রতিষ্ঠান ৭২টি রিক্রুট ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সাধারণত প্রতি ব্যাচে বিজিটিসিঅ্যান্ডসি ৭০০ থেকে ১০০০ জন রিক্রুটের মৌলিক প্রশিক্ষণ করার সক্ষমতা থাকলেও ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩ হাজার ২৩ জন (পুরুষ ২৯৫০ জন ও নারী ৭৩ জন) রিক্রুটের মৌলিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার ও বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক ৩ হাজার ২৩ জন রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নতুন করে প্রশিক্ষণ মাঠ তৈরিকরণ, আবাসন ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ ছাউনি তৈরি, বিশুদ্ধ পানি, মেডিকেল সাপোর্ট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লজিস্টিকস, শৃঙ্খলার মান নিয়ন্ত্রণ, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ সহায়ক সামগ্রী, বিজিবির বিভিন্ন ইউনিট হতে দক্ষ প্রশিক্ষক ও প্রশাসনিক সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের জন্য সার্বিকভাবে উপযুক্ত করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং ছিল। সবার জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করতে চাই যে, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের কোনো বাহিনীর প্রশিক্ষণ সেন্টারে এক সঙ্গে ৩ হাজার রিক্রুট প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার ইতিহাস নেই, যা বিজিটিসিঅ্যান্ডসি রিক্রুটদেরকে প্রশিক্ষিত সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলের অবদানকে আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সুপরিচিত এ বাহিনী বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সাথে পালন করে আসছে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দৃঢ় মনোবল, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তোমাদের উপর অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সুচারুরূপে পালন করবে। মনে রাখবা, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি। নবীন সৈনিক হিসেবে তোমাদেরকে এই সকল পেশাগত ও চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে।’

নবীন নারী সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান ভূমিকা রেখে চলেছে। মনে রেখো, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মহীয়সী নারীদের অংশগ্রহণ, অবদান ও আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়। আজ নারীরা বিভিন্ন অঙ্গনে যথাযথ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। আজ তোমরা দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃপ্ত শপথ নিয়ে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আরও গতিশীল ভূমিকা রাখাসহ বাহিনীর সুনাম-সুখ্যাতি বৃদ্ধিতে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তোমরাও অন্যান্য বাহিনীর নারী সৈনিকদের মতো কর্মক্ষেত্রে তোমাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণে সমভাবে সার্থক হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

নির্বাচনে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সুপরিকল্পিতভাবে সমন্বিতরুপে তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ বাহিনী থেকে মোট ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য ৬১টি উপজেলায় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। যা সামগ্রিক নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করবে মর্মে আমার বিশ্বাস। আপনাদেরকে যেকোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ববহির্ভূত আচরণ ও কর্মকাণ্ড, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা বিঘ্নিত করতে পারে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার জন্য আমি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছি। দেশের ভবিষ্যত কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পরিশেষে বলেন, ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের প্রত্যেক সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার ফসল আজকের এই নান্দনিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান। আমি ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সদস্যকে এই মহৎ কাজের সফল পরিসমাপ্তির জন্য তাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রিয় নবীন সৈনিকরা, তোমাদের সবার কর্মজীবন হোক সাফল্যমণ্ডিত সেই কামনা করছি। একই সঙ্গে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাবলীলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আমি মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কমান্ড্যান্ট, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট সব সদস্যদের আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিজিবি সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশকাল ০৫:৪৭:৩৬ পিএম, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিজিবি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিজিবির বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। কোনো বিজিবি সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না বরং রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। বিজিবি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়। এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহিদ, বিজিবির দুই বীরশ্রেষ্ঠ ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী অকুতোভয় সদস্য এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত শহিদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিজিবির ঐতিহ্যবাহী এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আজকের পুরুষ ও নারী নবীন সৈনিকদের কুচকাওয়াজ আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ বিগত ৪৪ বছর যাবৎ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্তৃক নিয়োগকৃত রিক্রুটদেরকে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। স্বাধীনোত্তর এ যাবৎ এই প্রতিষ্ঠান ৭২টি রিক্রুট ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সাধারণত প্রতি ব্যাচে বিজিটিসিঅ্যান্ডসি ৭০০ থেকে ১০০০ জন রিক্রুটের মৌলিক প্রশিক্ষণ করার সক্ষমতা থাকলেও ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩ হাজার ২৩ জন (পুরুষ ২৯৫০ জন ও নারী ৭৩ জন) রিক্রুটের মৌলিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার ও বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক ৩ হাজার ২৩ জন রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নতুন করে প্রশিক্ষণ মাঠ তৈরিকরণ, আবাসন ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ ছাউনি তৈরি, বিশুদ্ধ পানি, মেডিকেল সাপোর্ট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লজিস্টিকস, শৃঙ্খলার মান নিয়ন্ত্রণ, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ সহায়ক সামগ্রী, বিজিবির বিভিন্ন ইউনিট হতে দক্ষ প্রশিক্ষক ও প্রশাসনিক সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের জন্য সার্বিকভাবে উপযুক্ত করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং ছিল। সবার জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করতে চাই যে, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের কোনো বাহিনীর প্রশিক্ষণ সেন্টারে এক সঙ্গে ৩ হাজার রিক্রুট প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার ইতিহাস নেই, যা বিজিটিসিঅ্যান্ডসি রিক্রুটদেরকে প্রশিক্ষিত সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলের অবদানকে আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সুপরিচিত এ বাহিনী বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সাথে পালন করে আসছে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দৃঢ় মনোবল, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তোমাদের উপর অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সুচারুরূপে পালন করবে। মনে রাখবা, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি। নবীন সৈনিক হিসেবে তোমাদেরকে এই সকল পেশাগত ও চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে।’

নবীন নারী সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান ভূমিকা রেখে চলেছে। মনে রেখো, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মহীয়সী নারীদের অংশগ্রহণ, অবদান ও আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়। আজ নারীরা বিভিন্ন অঙ্গনে যথাযথ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। আজ তোমরা দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃপ্ত শপথ নিয়ে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আরও গতিশীল ভূমিকা রাখাসহ বাহিনীর সুনাম-সুখ্যাতি বৃদ্ধিতে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তোমরাও অন্যান্য বাহিনীর নারী সৈনিকদের মতো কর্মক্ষেত্রে তোমাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণে সমভাবে সার্থক হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

নির্বাচনে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সুপরিকল্পিতভাবে সমন্বিতরুপে তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ বাহিনী থেকে মোট ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য ৬১টি উপজেলায় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। যা সামগ্রিক নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করবে মর্মে আমার বিশ্বাস। আপনাদেরকে যেকোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ববহির্ভূত আচরণ ও কর্মকাণ্ড, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা বিঘ্নিত করতে পারে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার জন্য আমি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছি। দেশের ভবিষ্যত কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পরিশেষে বলেন, ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের প্রত্যেক সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার ফসল আজকের এই নান্দনিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান। আমি ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সদস্যকে এই মহৎ কাজের সফল পরিসমাপ্তির জন্য তাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রিয় নবীন সৈনিকরা, তোমাদের সবার কর্মজীবন হোক সাফল্যমণ্ডিত সেই কামনা করছি। একই সঙ্গে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাবলীলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আমি মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কমান্ড্যান্ট, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট সব সদস্যদের আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’